|
২০২৫ সালে আবারও তীব্রভাবে সামনে এসেছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত। গাজায়
ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জেরে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ধ্বংস আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মুসলিম বিশ্ব—সবার দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। |
সংঘাতের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের শেষ দিকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা নেয়।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় হামাস নেতা নিহত হন।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় গাজা থেকে রকেট হামলা শুরু হয় এবং ইসরায়েল জবাবে ব্যাপক বিমান
হামলা চালায়।
২০২৫ সালে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, যার ফলে বেসামরিক মানুষের জীবন
বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। হাসপাতাল, বিদ্যালয় ও শরণার্থী শিবির লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় মানবিক
সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
- জাতিসংঘ: নিরাপত্তা
পরিষদে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক প্রস্তাব উত্থাপন হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের
ভেটোর কারণে কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়নি। - ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ফ্রান্স,
জার্মানি, স্পেনসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইসরায়েলের
প্রতি পরোক্ষ সমর্থন অনেক দেশের আচরণে লক্ষ্য করা গেছে। - যুক্তরাষ্ট্র: বাইডেন প্রশাসন,
ট্রাম্প প্রশাসন একইভাবে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে অবস্থান বজায়
রেখেছে, তবে বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনায় “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করেছে।
মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া
- তুরস্ক ও ইরান: ইসরায়েলের
বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে একে ‘জাতিগত নিধন’ আখ্যা দিয়েছে। ইরান
সরাসরি হামাসকে সমর্থন জানিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। - সৌদি আরব: একদিকে সৌদি
সরকার কূটনৈতিকভাবে নিন্দা জানালেও ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন সমঝোতার আলোচনা এখনও
থেমে যায়নি—যা মুসলিম জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। - বাংলাদেশ ও
পাকিস্তান: উভয় দেশই ফিলিস্তিনের পাশে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং জাতিসংঘে
কার্যকর ভূমিকার দাবি জানিয়েছে।
মতামত ও বিশ্লেষণ
এই সংঘাত কেবল দুই পক্ষের নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক সংকটের
প্রতিফলন, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিচারিতা ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্যহীনতা
স্পষ্ট। ফিলিস্তিন প্রশ্নে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় এই সংঘাত নিয়মিত পুনরাবৃত্ত
হচ্ছে।
উপসংহার
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত ২০২৫ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শুধু নিন্দা বা
বিবৃতি যথেষ্ট নয়। মানবিকতা, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি
দীর্ঘস্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। এর জন্য শুধু মুসলিম বিশ্ব নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়কে একযোগে কার্যকর ও সৎ ভূমিকা নিতে হবে।
পাঠক মতামত
পাঠকগন ইচ্ছে করলে যার যার মতামত কমেন্টে জানাতে পারেন।









Leave a Reply